
বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে হুমায়ুন আহমেদ মানেই এক জাদুকরী নাম। সাধারণ গল্প, মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন কিংবা হিমু-মিসির আলী দিয়ে পাঠকদের হৃদয় জয় করলেও তাঁর জীবনের শেষ সময়ে তিনি হাত দিয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি কাজে। আর তা হলো—১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক অধ্যায়কে উপন্যাসের রূপ দেওয়া।
প্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের শেষ পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘দেয়াল’ কেবল একটি কাল্পনিক উপাখ্যান নয়, এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল।
‘দেয়াল’ উপন্যাসের মূল পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইতিহাসের বাঁক বদল এবং শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড—এই পুরো সময়টিকে হুমায়ুন আহমেদ খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘দেয়াল’ উপন্যাসে।
উপন্যাসের নাম কেন ‘দেয়াল’ রাখা হলো? এর গভীর প্রতীকী অর্থ রয়েছে। সেসময়ের রাজনৈতিক মেরুকরণ, ক্ষমতার লড়াই, সাধারণ মানুষের মনে ভীতি এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে অদৃশ্য যে দেয়াল তৈরি হয়েছিল, লেখক অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তা তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের বাস্তব চরিত্রগুলোর পাশাপাশি কিছু কাল্পনিক চরিত্র (যেমন: মাজেদা, কর্নেল শাফায়াত বা অন্যান্য চরিত্র) এই উপন্যাসের গল্পকে আরও আকর্ষণীয় ও জীবন্ত করে তুলেছে।
কেন ‘দেয়াল’ একটি ব্যতিক্রমী ও সাহসী উপন্যাস?
হুমায়ুন আহমেদ সচরাচর রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক পটভূমিতে উপন্যাস লেখেননি। কিন্তু জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি এমন একটি বিষয়ে কলম ধরেছেন যা অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইতিহাস ও কল্পনার মেলবন্ধন: বাস্তব রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সাথে কাল্পনিক চরিত্র ও আবেগের মিশেলে তিনি একটি দারুণ ন্যারেটিভ তৈরি করেছেন।
নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি: জটিল রাজনৈতিক সংকটের সময় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পক্ষের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তার একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
লেখকের শেষ সৃষ্টি: এটি হুমায়ুন আহমেদের জীবনের শেষ উপন্যাস হওয়ায় এর গুরুত্ব পাঠকদের কাছে অনেক বেশি।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক ও পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
‘দেয়াল’ বইটি যখন প্রথম বাজারে আসে, তখন থেকেই এটি নিয়ে পাঠক সমাজে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। ইতিহাসের কোনো কোনো সত্য ঘটনাকে লেখক যেভাবে উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মহলে তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। তবে একটি বিষয় অনস্বীকার্য—বইটি পড়ার সময় পাঠক ১৯৭৫ সালের সেই থমথমে রাজনৈতিক পরিবেশে হারিয়ে যান।
যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন খুব কাছ থেকে অনুধাবন করতে চান, তাদের জন্য এই বইটি একটি অবশ্য পাঠ্য গ্রন্থ।
ইতিহাসের রোমাঞ্চকর অধ্যায় জানতে পড়ুন ‘দেয়াল’
একটি দেশের ইতিহাসকে সঠিকভাবে জানার জন্য কেবল পাঠ্যপুস্তক যথেষ্ট নয়; অনেক সময় সাহিত্য বা উপন্যাসের পাতা থেকেও ইতিহাসের অনেক অজানা সত্য ও আবেগ খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। আপনি যদি হুমায়ুন আহমেদের অসামান্য লেখার জাদুতে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হতে চান, তবে আপনার সংগ্রহে থাকা উচিত হুমায়ুন আহমেদের লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘দেয়াল’।
‘দেয়াল’ বইটি সেরা ছাড়ে ঘরে বসেই অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন
আজই আপনার সংগ্রহে রাখুন প্রিয় লেখকের শেষ ও অন্যতম সেরা এই ঐতিহাসিক মাস্টারপিসটি!



Leave a Reply