
জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি (NID) কার্ড বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি যেকোনো জরুরি কাজে ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক সময় নতুন ভোটার হওয়ার পর কার্ড হাতে পেতে দেরি হয়। আবার অনেকের কার্ডে নাম, বয়স কিংবা পিতা-মাতার নামে ভুল থেকে যায়।
আগে এই আইডি কার্ড ডাউনলোড বা ভুল সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করা হয়েছে। আজকে আমরা জানবো কীভাবে ঘরে বসেই অনলাইন থেকে নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন এবং যেকোনো ভুল সংশোধন (নাম, ছবি বা বয়স) করবেন।
১. অনলাইন থেকে নতুন এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম
আপনি যদি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন এবং আপনার কাছে ফর্ম নম্বর বা স্লিপ নম্বরটি থাকে, তবে খুব সহজেই অনলাইন থেকে অরিজিনাল অনলাইন কপিটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল এনআইডি পোর্টাল https://services.nidw.gov.bd এ প্রবেশ করুন। যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে ‘রেজিস্ট্রেশন করুন’ অপশনে ক্লিক করুন। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (অথবা নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম নম্বর/স্লিপ নম্বর), জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা কোড দিয়ে সাবমিট করুন।
এরপর, আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা) সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন। আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি দিন। মোবাইলে একটি ওটিপি (OTP) বা ভেরিফিকেশন কোড আসবে, সেটি বসিয়ে নিশ্চিত করুন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গুগল প্লে-স্টোর থেকে NID Wallet অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিন। এবার স্ক্রিনে থাকা QR কোডটি মোবাইল অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে আপনার ফেস ভেরিফিকেশন (Face Verification) সম্পন্ন করুন। ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে আপনার প্রোফাইল ওপেন হবে। এবার একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিন। এখন ভেতরের ‘ডাউনলোড’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনার স্মার্ট এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপিটি PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড হয়ে যাবে।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ভুল সংশোধনের সহজ উপায়
অনেকেরই ভোটার আইডি কার্ডে নিজের নাম, পিতা/মাতার নাম, রক্তের গ্রুপ বা জন্মতারিখ ভুল থাকে। এটিও আপনি ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের নিয়ম: আপনার এনআইডি অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘প্রোফাইল’ অপশনে যান। ডানদিকের কোণায় থাকা ‘এডিট (Edit)’ বাটনে ক্লিক করুন। যে তথ্যটি সংশোধন করতে চান (যেমন: নাম বা জন্মতারিখ), সেটি সঠিকভাবে পূরণ করুন। সংশোধনের সপক্ষে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ বা কাগজপত্র (যেমন: এসএসসি সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ইত্যাদি) স্ক্যান বা পরিষ্কার ছবি তুলে আপলোড করুন। বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে আবেদনটি সাবমিট করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি আপনার আইডি কার্ডের ছবি খুব অস্পষ্ট হয় বা স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে চান, তবে এটি অনলাইনের মাধ্যমে পুরোপুরি সম্ভব নয়। ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometric) পরিবর্তনের জন্য আপনাকে সরাসরি আপনার নিকটস্থ উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে যোগাযোগ করতে হবে।
৩. NID সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভুল সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী আপনাকে সঠিক ডকুমেন্টস আপলোড করতে হবে। অন্যথায় আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। নাম এবং বয়স সংশোধনের জন্য লাগবে এসএসসি/এইচএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। বিবাহিত নারীদের নাম পরিবর্তনের জন্য লাগবে স্বামীর এনআইডি কার্ডের কপি, নিকাহনামা বা কাবিননামা এবং বিবাহ নিবন্ধন সনদ। পিতা/মাতার নাম সংশোধনের জন্য লাগবে পিতা/মাতার এনআইডি কার্ডের কপি, ভাই-বোনের এনআইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ।
৪. ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সরকারি ফি (Fee)
এনআইডি কার্ড সংশোধনের জন্য সরকারিভাবে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা আছে, যা আপনি বিকাশ, রকেট বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।
| সংশোধনের ধরন | ১ম বার আবেদন | ২য় বার আবেদন | ৩য় বা তদুর্ধ্ব |
| ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন (নাম, বয়স ইত্যাদি) | ২৩০ টাকা | ৩৪৫ টাকা | ৫৭৫ টাকা |
| অন্যান্য তথ্য সংশোধন (ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ) | ১১৫ টাকা | ১১৫ টাকা | ২৩৯ টাকা |
| হারানো বা নষ্ট কার্ড রিইস্যু (স্মার্ট কার্ড) | ৩৪৫ টাকা | ৫৭৫ টাকা | ১১৫০ টাকা |
উল্লেখ্য: উপরোক্ত ফি-র সাথে ১৫% ভ্যাট যুক্ত হবে।
অনলাইনে আবেদন করার পর সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে (তদন্ত সাপেক্ষে) এনআইডি কার্ড সংশোধন হয়ে যায়। আবেদন অনুমোদিত হলে আপনার মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং আপনি পুনরায় অ্যাকাউন্ট থেকে সংশোধিত নতুন আইডি কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। ভুল তথ্যের কারণে ভোগান্তি এড়াতে আজই আপনার এনআইডি চেক করুন এবং কোনো ভুল থাকলে এই নিয়মে সংশোধন করে নিন। এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক এমন আরও তথ্যবহুল গাইড পেতে InfoPondit এর সাথেই থাকুন!


Leave a Reply